بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِِ

মুমিনদের আধ্যাত্মিক খোরাক

সৈয়্যদ তালে’ আহমদ: কৃত অঙ্গীকার প্রকৃত অর্থে পালনকারী একজন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় সাম্প্রতিক শহীদ হয়ে যাওয়া, কৃত অঙ্গীকার প্রকৃত অর্থে পালনকারী, খিলাফতের একজন একান্ত নিষ্ঠাবান ও বিশ্বস্ত প্রেমিক এবং সেবক শহীদ সৈয়্যদ তালে’ আহমদ সাহেবের স্মৃতিচারণ করেন।

তাশাহ্‌হুদ, তা’উয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, সম্প্রতি আমাদের খুবই প্রিয় এক সন্তান ও ওয়াক্‌ফে যিন্দেগী (ধর্মসেবায় জীবনোৎসর্গকারী) স্নেহের সৈয়্যদ তালে’ আহমদ, পিতা সৈয়্যদ হাশেম আকবর, ঘানায় শাহাদত বরণ করে, إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ। ২৩ ও ২৪ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে এমটিএ’র একটি দল ঘানার উত্তরাঞ্চলে রেকর্ডিং সেরে কুমাসি আসছিল, পথিমধ্যে সোয়া সাতটার দিকে ডাকাতদের গুলিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট সেই দলটির দু’জন- স্নেহের সৈয়্যদ তালে’ আহমদ ও উমর ফারুক সাহেব আহত হন। তাকে প্রথমে পলি-ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, পরবর্তীতে বড় হাসপাতালে নেয়ার সময় ঘটনার প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা পর পথিমধ্যেই স্নেহের তালে’ মৃত্যু বরণ করে। হুযূর (আই.) বলেন, অন্যান্য দেশে এমটিএ ইন্টারন্যাশনালের কিছু কর্মীর ইতিপূর্বে শাহাদাত হলেও যুক্তরাজ্যের কোন কর্মীর এটিই প্রথম শাহাদত; একইভাবে আমার ধারণামতে যুক্তরাজ্যের ওয়াকেফীনে নওদের মাঝেও এটি প্রথম শাহাদত। হুযূর (আই.) সৈয়্যদ তালে’ আহমদ সাহেবের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরেন; তিনি শ্রদ্ধেয় আমাতুল লতীফ বেগম সাহেবা ও সৈয়্যদ মীর মোহাম্মদ আহমদ সাহেবের দৌহিত্র ও হযরত মির্যা বশীর আহমদ সাহেব (রা.)’র প্রদৌহিত্র এবং ডা: মীর মুহাম্মদ ইসমাঈল সাহেব (রা.)’র প্রপৌত্র ছিলেন, এভাবে তিনি যেমন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বংশধর ছিলেন, তেমনি হযরত আম্মাজানের সাথেও ভিন্ন আঙ্গিকে তার রক্তের সম্পর্ক ছিল। এছাড়া শহীদ মির্যা গোলাম কাদের সাহেবের জামাতাও ছিলেন তিনি। আল্লাহ্ তা’লার কৃপায় তিনি মূসী ছিলেন এবং ওয়াক্‌ফে নও স্কীমেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বায়ো-মেডিকেল সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, এরপর সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করেন। ২০১৩ সালে জীবন উৎসর্গ করেন ও বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করার পর প্রেস ও মিডিয়া বিভাগে তার পদায়ন হয়। এর পূর্বে তিনি নিজ জামাতে স্থানীয় পর্যায়েও তবলীগ, তালীম, ইশাআত, আতফালসহ বিভিন্ন বিভাগে সেবা করার সুযোগ পান। ২০১৬ সালে এমটিএ’র সংবাদ বিভাগে তার পদায়ন হয়, এর পূর্বে রিভিউ অব রিলিজিয়ন্সের সূচীপত্র প্রণয়নের কাজে নিয়োজিত দলের তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমটিএ সংবাদের জন্য তিনি বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন, আরও তিন-চারটি প্রামাণ্যচিত্রের ওপরে কাজ করছিলেন। হুযূর (আই.)-এর কর্মব্যস্ততা নিয়ে নির্মিত “This week with Huzoor” শীর্ষক সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানটি তারই উদ্যোগে আরম্ভ হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অত্যন্ত উৎসাহের সাথে এর সার্বিক কাজ তিনি করে আসছিলেন। তাহের ম্যাগাজিনের সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি খোদ্দামুল আহমদীয়ার ইশাআত বিভাগে সেবা করেছেন এবং জামা’তের বিভিন্ন পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রবন্ধও লিখতেন। প্রেস ও মিডিয়া বিভাগের কাজে হুযূর (আই.)-এর সাথে ছাড়াও বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন।

নিজের কাজ যথাসময়ে শেষ করার এবং দায়সারাভাবে নয়, বরং সেটিকে উন্নত মানসম্পন্ন বানানোর জন্য সৈয়দ তালে’ সাহেবের মাঝে এক অসাধারণ প্রেরণা ও উদ্দীপনা কাজ করতো, আর এমনটি করতে গিয়ে কোন বাধা-বিপত্তির তোয়াক্কা করতেন না। তার শাহাদতের ঘটনা থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এক মুহূর্তের জন্যও বিপদ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন না; চিন্তা ছিল কেবল যে কাজে গিয়েছেন সেটি যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে। সময়ের ভেতর সব কাজ করার চিন্তা থেকেই এমন সময়ে তিনি যাত্রা করেন যার ফলে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। টামালের স্থানীয় মিশনারী আবু বকর ইব্রাহীম সাহেব তার প্রস্তুতি দেখে ২৩ তারিখ সকালেই বলেছিলেন, কোন কারণে দেরি হয়ে গেলে রাতে সফর করা বিপজ্জনক হতে পারে; মৌলভী সাহেবের পরামর্শ তিনি সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন, কিন্তু পরবর্তীতে কাজের স্বার্থে ঝুঁকি নিয়েই রাতে ফিরতি যাত্রা করেন। গাড়িতেই নামায আদায় করে সালাগা ও টামালেতে যেসব রেকর্ডিং করা হয়েছিল সেগুলো সংরক্ষণের জন্য ল্যাপটপে ট্রান্সফার করছিলেন। এরই মাঝে রাস্তায় থাকা সশস্ত্র ডাকাতরা তাদের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। ডাকাতদল ড্রাইভার ও সামনের সিটে থাকা উমর ফারুক সাহেবকে গাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় উপুড় করে শুইয়ে দেয়, উমর সাহেবের উরুতে গুলি লাগা ছাড়াও ডাকাতদের লাঠির আঘাতে তার মাথায় ক্ষত হয়। তালে’ সাহেব পেছনের সিটে ছিলেন। ডাকাতরা লুটপাট শেষে চলে গেলে তারা তালে’ সাহেবের কাছে ছুটে আসেন, তার কোমরে ডানদিকে গুলি লেগেছিল ও গাড়ির ভেতরেই প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল যা শেষ পর্যন্ত তার প্রাণনাশের কারণ হয়। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এমন একটি বাসে করে প্রথমে তাকে পলি-ক্লিনিকে নেয়া হয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়; অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত হাসপাতালে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়, কিন্তু পথিমধ্যেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। কিন্তু খিলাফতের প্রতি তালে’ সাহেবের নিষ্ঠা এই পরিস্থিতিতেও কেমন ছিল তা উমর সাহেব বলেছেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে উমর সাহেবের কোলে ছিল তার মাথা এবং তিনি বারবার জানতে চাইছিলেন- এই বিপদের কথা হুযূর (আই.)-কে জানানো হয়েছে কি-না ও দোয়ার আবেদন করা হয়েছে কি-না? নিজের দায়িত্বের প্রতি নিষ্ঠার পরাকাষ্ঠা দেখুন! তিনি উমর সাহেবকে বলেন যে, গোলাগুলির মধ্যেই তিনি ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিস পেছনের সিটের নিচে লুকিয়ে ফেলেছিলেন, পরে যেন তারা সেগুলো উদ্ধার করেন। তার চিন্তা ছিল কেবল জামা’তের জিনিসপত্র নিয়ে এবং জামা’তের ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য তারা পরিশ্রম করে যে রেকর্ডিং করেছিলেন- সেগুলো নিয়ে। পথে বারবার তালে’ সাহেব উমর সাহেবকে বলছিলেন, ‘হুযূরকে বলো, আমি তাঁকে ভালোবাসি! আমার পরিবারকেও বলো, আমি তাদের ভালবাসি!’ তিনি বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছিলেন আর, সংজ্ঞা ফিরে পেতেই বার বার এই অনুরোধ করছিলেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি শাহাদত বরণ করেন। হুযূর (আই.) বলেন, সে এক টুকরো হীরা ছিল যে আজ আমাদের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছে; আল্লাহ্ তা’লা এমন বিশ্বস্ত, খিলাফতের প্রতি একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত এবং ধর্মকে জাগতিকতার ওপর প্রাধান্য দানকারী সেবক জামা’তকে দান করতে থাকুন, (আমীন)। কিন্তু তার মৃত্যুতে যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়! এই প্রিয় সত্তা ওয়াক্‌ফের মর্ম অনুধাবনকারী ও কৃত অঙ্গীকার প্রকৃত অর্থে পালনকারী ছিল। হুযূর (আই.) বলেন, “তাকে দেখে আমি আশ্চর্য হতাম এবং এখনও হই যে, কীভাবে এই জগৎমুখী পরিবেশে লালিত-পালিত হয়েও সে নিজের ওয়াক্‌ফ অনুধাবন করেছে ও পালন করেছে, আর এমনভাবে পালন করেছে যে, তা পরম মার্গে পৌঁছে দিয়েছে! সে বুযূর্গদের ঘটনা পড়তো; ইতিহাস জানার জন্য বা তাদের জীবন চরিত পড়ে আশ্চর্য হওয়ার জন্য নয়! সেগুলোকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার জন্য পড়তো! খিলাফতের প্রতি যে বিশ্বস্ততা ও নিষ্ঠা ছিল তা নিতান্তই বিরল; অনেক সময় ধর্মের গভীর জ্ঞান থাকা মানুষদেরও মাঝেও এমনটি থাকে না। নিজের অন্তিম মুহূর্তেও নিজ সন্তান ও পরিবারের আগে বারংবার খিলাফতের প্রতি ভালোবাসা ও নিষ্ঠা জ্ঞাপনের এরূপ উদাহরণ রয়েছে কি-না সন্দেহ”। দু’তিন বছর পূর্বে তিনি একটি নযম লিখে নিজের কোন বন্ধুকে দিয়েছিলেন, যার প্রতিপাদ্য ছিল খিলাফতের প্রতি ভালোবাসা। নযমের প্রথম কথাটি ছিল- আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি খলীফাকে; আর শেষ লাইনটি ছিল- খলীফাকে আমি কতটা ভালোবাসি তা তিনি কখনও জানতে পারবেন না! হুযূর (আই.) তাকে সম্বোধন করে বলেন, “হে প্রিয় তালে’! আমি তোমাকে বলছি- তোমার এই শেষ শব্দগুলোর আগেও আমি জানতাম যে, খিলাফতের প্রতি তোমার ঐকান্তিক ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে!” হুযূর (আই.) বলেন, মনের অবস্থা তো আল্লাহ্ তা’লা জানেন, কিন্তু হুযূরের দৃষ্টিতে খিলাফতের প্রতি যে ভালোবাসা সৈয়্যদ তালে’ সাহেবের ছিল, তার উপমা মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বর্তমান বংশধর যুবকদের মধ্যে তো নেই-ই, বয়োজ্যেষ্ঠদের মাঝেও হয়ত গুটিকতকই থাকবে। হুযূর (আই.) বলেন, “আমি দোয়া করি, এই দুর্ঘটনার পর আল্লাহ্ তা’লা আরও অনেককে এই মানের বানিয়ে দিন”।

খিলাফতের প্রতি নিজের ভালোবাসা তালে’ সাহেব প্রকাশ করতে চাইতেন না, গোপন করতে চাইতেন, তবুও বিভিন্নভাবে আল্লাহ্ তা’লা তা হুযূর (আই.)-এর চোখে প্রকাশ করে দিতেন। নিজের কাজের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা ছিল, আর তা শুধু এজন্যই যে, এর মাধ্যমে তিনি মুহাম্মদ (সা.)-এর ধর্ম ইসলামের সুরক্ষার কাজ করছেন, ইসলাম ও মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বাণী প্রচারের কাজ করছেন, যুগ-খলীফার কাজে সাহায্য করছেন! সাংবাদিকতায় ভর্তি হয়েছিলেন তিনি হুযূর (আই.)-এর পরামর্শেই, আর শহীদ হওয়ার মাধ্যমে একথা বলে গেলেন যে, তিনি খিলাফতের প্রকৃত সাহায্যকারী ছিলেন। হুযূর (আই.) বলেন, “হে প্রিয় তালে’! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, নিশ্চয়ই তুমি নিজের ওয়াকফ ও অঙ্গীকার পূর্ণ করার উচ্চ মানে অধিষ্ঠিত হয়েছ!”

যুগ-খলীফার নির্দেশাবলী পালনের জন্য তিনি কতটা ব্যাকুল ও সচেষ্ট ছিলেন, সেরকম কিছু ঘটনাও হুযূর উল্লেখ করেন। যেমন, মুরব্বীদের উদ্দেশ্যে হুযূর (আই.)-এর উপদেশ যে, দৈনিক এক ঘন্টা তাহাজ্জুদ পড়ার চেষ্টা করুন- এটি শুনেই তিনি নীরবে তা পালনের চেষ্টা আরম্ভ করে দেন। হুযূর (আই.) তাকে মালেক গোলাম ফরীদ সাহেব প্রণীত ৫ খণ্ডের ইংরেজি তফসীর অধ্যয়নের নির্দেশনা দেন; হুযূর (আই.) ভেবেছিলেন এটি করতে তার অন্তত কয়েক বছর সময় লাগবে। কিন্তু সৈয়্যদ তালে’ মাত্র কয়েক মাসেই তা সম্পন্ন করে হুযূর (আই.)-কে জানান, এটি জেনে হুযূর (আই.) আশ্চর্য হন। সদর খোদ্দাম কুদ্দূস আরেফ সাহেব তাকে গত বছর আতফাল র‌্যালিতে খলীফার সাথে তার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার বিষয়ে বলতে বললে প্রথমে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, পরে সদর সাহেবের নির্দেশ পালনার্থে এটি করেন যা আতফালরা খুবই উপভোগ করেছে। তিনি নিজেকে নিতান্ত সামান্য জ্ঞান করতেন এবং চাইতেন যে, বুড়ো বয়সে গিয়ে সেসব ঘটনা অন্যদেরকে বলবেন, কিন্তু আল্লাহ্ তা’লা যেহেতু জানতেন তাই আগেই তাকে দিয়ে এগুলো বলিয়ে নিয়েছেন। তার স্ত্রী সাতওয়াত সাহেবা বলেন, তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি গভীর ভালোবাসা রাখতেন। নিজ পুত্র তালাল আহমদকে মহানবী (সা.)-এর বিভিন্ন ঘটনা শোনাতে গিয়ে শিশুদের মতো অঝোরে কাঁদতেন। সর্বদা ধর্মকে জাগতিকতার ওপর প্রাধান্য দিতেন। ছোটবেলায় খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল-এর একটি ঘটনা পড়েছিলেন যে, তার আর্থিক বিষয়গুলো আল্লাহ্ তা’লা কীভাবে পূর্ণ করতেন; তিনি নিজেও সাথে সাথে একই দোয়া করেন যেন আল্লাহ্ তা’লা তার সাথেও এরূপ আচরণ করেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আল্লাহ্ তার এই দোয়া কবুল করেছেন, বারংবার তার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছেও। কখনও জামা’তের কাছে আর্থিক কোন দাবি-দাওয়া করতেন না, বরং সবসময় স্বল্পে-তুষ্ট থাকতেন ও আল্লাহ্‌র ওপর ভরসা করতেন। সর্বদা নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতেন, কিন্তু একদম নিরহংকার ছিলেন। তার বড় বোনের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি নিজের শাহাদতের বিষয়ে পূর্বেই ধারণা করতে পেরেছিলেন এবং এর জন্য গভীর আগ্রহও লালন করতেন। তার পিতা-মাতা উভয়েই পুত্রের শাহাদতের ঐশী সিদ্ধান্তে নিজেদের সন্তুষ্টি জ্ঞাপন করেছেন।

হুযূর (আই.) তালে’ সাহেবের মৃত্যু উপলক্ষ্যে প্রাপ্ত অসংখ্য চিঠির মধ্য থেকে তার নিকটজনদের কয়েকটি পত্রের বরাতে তার স্মৃতিচারণ করেন। হুযূর (আই.) বলেন, রক্তের দিক থেকেও এবং আধ্যাত্মিকতার দিক থেকেও মহানবী (সা.) ও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বংশধর হওয়ার দায়িত্ব সে যথাযথভাবে পালন করেছে। আর আল্লাহ্ তা’লাও তাকে মহানবী (সা.)-এর বংশধর হওয়ায় এমনভাবে নিয়েছেন যে, মহররম মাসেই তাকে কুরবানী দেয়ার জন্য বেছে নিয়েছেন। হুযূর (আই.) দোয়া করেন, আল্লাহ্ তা’লা তার মর্যাদা উন্নত থেকে উন্নততর করুন। তার মৃত্যুর পর কেউ একজন স্বপ্নও দেখেছেন যে, মহানবী (সা.) একস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, তালে’ ছুটে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং মহানবী (সা.)-ও তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘এসো আমার ছেলে, স্বাগতম!’ হুযূর (আই.) বলেন, “কতই না সৌভাগ্যবান সে, যে ধর্মের খাতিরে ত্যাগ স্বীকার করে এই অবস্থান অর্জন করে! আল্লাহ্ তা’লা তার স্ত্রী-সন্তানেরও হাফেয ও নাসের হোন, তাদেরকে এবং তার পিতামাতা, ভাই-বোনদেরও ধৈর্য দান করুন আর তার পরিবারবর্গকে তার পুণ্যকাজগুলো ধরে রাখার তৌফিক দিন। (আমীন)”