بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِِ

মুমিনদের আধ্যাত্মিক খোরাক

শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ – নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীগণ: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

২২ অক্টোবর, ২০২১ ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ২২শে অক্টোবর, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় সাম্প্রতিক ধারা অনুসরণে নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীদের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ খুতবায় হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)’র ধারাবাহিক স্মৃতিচারণে তাঁর শাহাদত-পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এবং তাঁকে নিয়ে সাহাবীদের ও ইউরোপীয় লেখকদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরেন। খুতবার শেষাংশে হুযূর (আই.) সম্প্রতি প্রয়াত কতিপয় নিষ্ঠাবান আহমদীর স্মৃতিচারণ করেন ও নামাযান্তে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়ান।

তাশাহ্‌হুদ, তাআ’ঊয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, বিগত খুতবায় হযরত উমর (রা.)’র শাহাদত প্রসঙ্গে হযরত উবায়দুল্লাহ্ বিন উমর ও হযরত উসমান (রা.)’র মধ্যকার বিত-ার উল্লেখ করেছিলাম এবং এ-ও বলেছিলাম, এটি একটি বর্ণনামাত্র; আল্লাহ্ই ভালো জানেন এটি কতটা সঠিক। এ বিষয়ে আরও গবেষণার পর যে বিষয়গুলো সামনে এসেছে তা তুলে ধরছি। একটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত উবায়দুল্লাহ্ যখন এই বিতণ্ডা করেন তখনও হযরত উসমান (রা.) খিলাফতের আসনে সমাসীন হন নি। উবায়দুল্লাহ্ সেদিন মদীনার সকল বিদেশী বন্দীকেই হত্যা করতে মনস্থ করেছিলেন, কিন্তু মদীনার প্রথম যুগের মুহাজিররা তাকে বাধা দিলেও তিনি তাদের তোয়াক্কা না করে সবাইকে হত্যা করার হুমকি দেন। হযরত আমর বিন আস (রা.) বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে নিরস্ত করেন; এরপর সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা.) এসে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করলে উবায়দুল্লাহ্ তার সাথেও রূঢ় ব্যবহার করেন। এ ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে, এসব ঘটনার পর হযরত উবায়দুল্লাহ্কে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। হযরত উসমান (রা.) খিলাফতের আসনে সমাসীন হওয়ার পর উবায়দুল্লাহ্‌কে খলীফার দরবারে উপস্থিত করা হলে তিনি (রা.) তার বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে একদল মুহাজির ও আনসারের কাছে পরামর্শ চান, তখন হযরত আলী (রা.) মন্তব্য করেন, তাকে ছেড়ে দিলে অন্যায় হবে, তাই তাকে হত্যা করা উচিত। কিন্তু কতিপয় মুহাজির এই অভিমতকে অতিরিক্ত কঠোর আখ্যা দেন ও বলেন, মাত্র গতকালই হযরত উমর (রা.)-কে শহীদ করা হয়েছে, আর আজ তাঁর ছেলেকেও হত্যা করা হবে? একথা শুনে উপস্থিত সবার হৃদয় ব্যথিত হয় এবং হযরত আলী (রা.)ও নিশ্চুপ হয়ে যান। কিন্তু যেহেতু হযরত উসমান (রা.) বিষয়টির একটি সুরাহা করতে দায়বদ্ধ ছিলেন, তাই তিনি বিষয়টি সমাধা করার বিষয়ে পরামর্শ চান। হযরত আমর বিন আস (রা.) বলেন, যেহেতু ঘটনা ঘটার সময় আপনি খলীফা ছিলেন না, তাই এর দায়ভার আপনার ওপর বর্তায় না। কিন্তু হযরত উসমান (রা.) একথায় নির্ভার হতে পারেন নি। তাঁর মতে নিহতদের অভিভাবকত্বের ভার যেহেতু তার কাঁধে ছিল, তাই তিনি তাদের রক্তপণ হিসেব করান এবং নিজের পক্ষ থেকে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেন।

তাবারীর ইতিহাস অনুসারে হযরত উসমান (রা.), উবায়দুল্লাহ্‌কে হুরমুযানের পুত্রের হাতে তুলে দিয়েছিলেন যেন সে পিতৃহত্যার প্রতিশোধ তথা কিসাস হিসেবে তাকে হত্যা করে; কিন্তু সে তাকে ক্ষমা করে দেয়। চুক্তিবদ্ধ কোন কাফিরকে হত্যার অপরাধে মুসলমান হত্যাকারীকে শাস্তি দেয়া হবে কি-না- এই প্রশ্নের উত্তরে হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছেন, যা হুযূর (আই.) গত ৩০শে জুলাই তারিখের খুতবায় উল্লেখ করেছিলেন; আজ তা পুনরায় উল্লেখ করেন।

তাবারীর বর্ণনানুসারে হুরমুযান মাজুসী ধর্মের অনুসারী ছিল এবং ধারণা করা হয়, হযরত উমর (রা.)-কে শহীদ করার পেছনে তার হাত ছিল। হুরমুযানের পুত্র কুমাযবানের বরাতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর (রা.)’র হত্যাকারী ফিরোয লুলু একদিন স্বদেশী হুরমুযানের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলে হুরমুযান তার কাছে থাকা দু’ধারী ছুরিটি ধরে সেটির বিষয়ে তার কাছে জানতে চায়; ফিরোয তাকে মিথ্যা জবাব দিয়েছিল। দূর থেকে কেউ এই আলাপচারিতা দেখেছিল। পরবর্তীতে ফিরোয যখন সেই ছুরি দিয়ে হযরত উমর (রা.)-কে আক্রমণ করে, তখন সেই ব্যক্তি বলেন যে, তিনি হুরমুযানকে এই ছুরি ফিরোযের হাতে তুলে দিতে দেখেছেন। একথা শুনেই হযরত উমর (রা.)’র ছোট পুত্র উবায়দুল্লাহ্ গিয়ে হুরমুযানকে হত্যা করে ফেলে। হযরত উসমান (রা.) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর কুমাযবানকে ডেকে উবায়দুল্লাহ্কে তার হাতে তুলে দেন এবং পিতৃহত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করতে বলেন। কুমাযবান যখন তাকে নিয়ে শহরের বাইরে যাচ্ছিল তখন মদীনার অনেক মুসলমানই এসে তাকে অনুরোধ করছিলেন যেন সে উবায়দুল্লাহ্‌কে ছেড়ে দেয়; তারা এ-ও বলছিলেন, উবায়দুল্লাহ্ অন্যায় করেছে এবং তাকে হত্যা করার পূর্ণ অধিকার কুমাযবানের রয়েছে, তারা উবায়দুল্লাহ্‌কে তিরস্কারও করেন। কুমাযবান যখন দেখে যে, কেউ তার অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে না, তখন সে আল্লাহ্ ও মুসলমানদের সন্তুষ্টির খাতিরে উবায়দুল্লাহ্‌কে ছেড়ে দেয়। সবাই তখন আনন্দের আতিশয্যে কুমাযবানকে মাথায় তুলে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। এই ঘটনা সাব্যস্ত করে, সাহাবীরা অন্যায়ভাবে অমুসলমানকে হত্যার অপরাধে মুসলিম ব্যক্তিকে মৃত্যুদ- দিতেন। একইসাথে এ-ও সাব্যস্ত হয়, হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা ও দণ্ড দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, কোন ব্যক্তির নয়। তবে শাস্তির বাস্তবায়ন ভুক্তভোগীর ওয়ারিশ করবে নাকি রাষ্ট্র নিজেই করবে- সেটি যুগের অবস্থা ও পরিবেশ অনুসারে ঠিক করার সুযোগ ইসলাম দিয়ে রেখেছে।

মৃত্যুকালেও হযরত উমর (রা.)’র দীনতা ও বিনয় কেমন ছিল- সে সংক্রান্ত একটি ঘটনা হুযূর উল্লেখ করেন। হযরত উমর (রা.) তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, তাঁর কাফন যেন সাধারণ মানের কাপড় দিয়ে করা হয়, কবরও যেন সাধারণ আকারের বানানো হয়, তার প্রশংসা করতে গিয়ে অতিশয়োক্তি যেন না করা হয়, মৃতদেহ যেন দ্রুত সমাহিত করা হয়, গোসল করানোর সময় যেন কস্তুরি ইত্যাদি দামী সুগন্ধি ব্যবহার করা না হয়। কোন মহিলা যেন তাঁর জানাযার সাথে না যায়। এসব কিছুর কারণও তিনি বলেছিলেন যা থেকে বুঝা যায়, তিনি নিতান্ত বিনয় ও খোদাভীতির কারণে এরূপ নির্দেশ দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পূর্বে যখন একেকজন তাঁর মহত্ব ও ইসলামের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা বলছিলেন, তখন বারবার হযরত উমর (রা.) একথাই বলেছিলেন- লা লী ওয়ালা আলাইয়্যা; আমি যা করেছি তার জন্য কোন বিশেষ সম্মান বা পুরস্কার চাই না, চাওয়া শুধু এটুকুই- আল্লাহ্ যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন এবং কোন কারণে শাস্তি না দেন।

হযরত উমর (রা.)’র মরদেহ গোসল করিয়েছিলেন তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ্ (রা.); মসজিদে নববীতে তাঁর জানাযার নামায পড়ান হযরত সুহায়েব (রা.)। তাঁকে সমাহিত করার জন্য হযরত উসমান, সাঈদ বিন যায়েদ, সুহায়েব বিন সিনান ও আব্দুল্লাহ্ বিন উমর রাযিআল্লাহু আনহুম তাঁর কবরে অবতরণ করেছিলেন; কতক বর্ণনায় হযরত আলী, আব্দুর রহমান বিন অওফ, সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস, তালহা, যুবায়ের বিন আওয়াম রাযিআল্লাহু আনহুম প্রমুখেরও উল্লেখ পাওয়া যায়।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, পুণ্যবানদের পাশে সমাহিত হওয়াও মহা সৌভাগ্যের বিষয়; এ প্রসঙ্গে তিনি (আ.) হযরত উমর (রা.)’র মৃত্যুর পূর্বে মহানবী (সা.)-এর পাশে সমাহিত হওয়ার বিষয়ে হযরত আয়েশা (রা.)-কে অনুরোধ করার ঘটনাটি উল্লেখ করেন। আরেক স্থানে তিনি (আ.) এ-ও বলেন, যদি মুসা ও ঈসা (আ.) জীবিত থাকতেন তবে তাঁরাও সেখানে সমাহিত হওয়ার ব্যাপারে ঈর্ষান্বিত হতেন। হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, পাশ্চাত্যের খ্রিস্টান লেখকরা মহানবী (সা.) সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক মন্তব্য করলেও হযরত উমর (রা.)’র প্রশংসায় তারা পঞ্চমুখ; অথচ সেই উমর (রা.) মৃত্যুর সময় মহানবী (সা.)-এর পাশে সমাহিত হওয়ার জন্য কতটা ব্যাকুল ছিলেন! এটি প্রমাণ করে যে, মহানবী (সা.) কতটা মহান ছিলেন, মৃত্যুর পরও যার সান্নিধ্য পেতে হযরত উমর (রা.) ব্যাকুল ছিলেন।

মৃত্যুকালে হযরত উমর (রা.)’র বয়স নিয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে নানারকম অভিমত রয়েছে। নির্ভরযোগ্য বর্ণনামতে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর, যেভাব মহানবী (সা.) ও আবু বকর (রা.)’র বয়সও মৃত্যুকালে ৬৩ বছর ছিল। হযরত উমর (রা.)’র মৃত্যুতে সাহাবীরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। হযরত আলী (রা.) তাঁর পুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মহানবী (সা.)-এর কাছে বারংবার আবু বকর ও উমর (রা.)’র গুণগান শোনার কথা স্মরণ করেন। আব্দুল্লাহ্ বিন মাসঊদ (রা.) বলেছিলেন, যদি উমর (রা.)’র জ্ঞান এক পাল্লায় এবং বাকি সবার জ্ঞান আরেক পাল্লায় রাখা হয় তবে তাঁর পাল্লাই ভারী হবে। আবু তালহা (রা.) বলেছিলেন, আরবের এমন কোন নাগরিক বা এমন একটি বেদুঈন পরিবারও নেই, হযরত উমর (রা.)’র মৃত্যুতে যাদের ক্ষতি না হয়েছে। সাঈদ বিন যায়েদ (রা.)’ বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুতে ইসলামের এমন ক্ষতি হয়েছে যা কিয়ামত পর্যন্ত পূরণ হবে না।

হযরত উমর (রা.)’র বিভিন্ন সময়ে দশজন সহধর্মিণী ছিলেন, যাদের গর্ভে তাঁর নয়জন পুত্র ও চারজন কন্যা সন্তান জন্ম নেন। তাঁর প্রথমা স্ত্রী ছিলেন হযরত যয়নাব বিনতে মাযউন, যার গর্ভে হযরত আব্দুল্লাহ্, আব্দুর রহমান, আকবর ও উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা (রা.) জন্মগ্রহণ করেন। আরেক স্ত্রী ছিলেন, হযরত উম্মে কুলসুম বিনতে আলী, যার গর্ভে যায়েদ, আকবর ও রুকাইয়া জন্ম নেন; হুযূর বাকিদের কথাও উল্লেখ করেন। হুযূর (আই.) হযরত উমর (রা.)’র প্রশংসায় প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ এডওয়ার্ড গিবন, মাইকেল এইচ. হার্ট এবং পি. কে. হিত্তি প্রমুখদের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। হুযূর বলেন, এই স্মৃতিচারণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ্।

খুতবার শেষদিকে হুযূর (আই.) সম্প্রতি প্রয়াত কতিপয় নিষ্ঠাবান আহমদীর গায়েবানা জানাযা পড়ানোর ঘোষণা দেন এবং তাদের সংক্ষিপ্ত স্মৃতিচারণ করেন। প্রথম জানাযা শ্রদ্ধেয়া সাহেবযাদী আসেফা মাসঊদা সাহেবার, যিনি হযরত মির্যা বশীর আহমদ সাহেব (রা.)’র পুত্র ডা. মির্যা মোবাশ্বের আহমদ সাহেবের সহধর্মিণী ছিলেন; সম্প্রতি ৯২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ । তিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দৌহিত্রী এবং নওয়াব মোবারকা বেগম সাহেবা (রা.) ও নওয়াব মোহাম্মদ আলী খান সাহেব (রা.)’র কনিষ্ঠা কন্যা ছিলেন। তার অজ¯্র অসাধারণ গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম ছিল নামায ও দোয়ার প্রতি গভীর মনোযোগ, খিলাফতের প্রতি পরম শ্রদ্ধা ও আনুগত্য, নিজের ক্ষেত্রে অনাড়ম্বর ও সল্পেতুষ্টির জীবন এবং দরিদ্রদের জন্য মুক্তহস্তে খরচ করা ইত্যাদি। তিনি যদিও একাধারে হুযূর (আই.)-এর দাদী, খালা ও ফুফু ছিলেন, কিন্তু তার চেয়ে বেশি তিনি নিজেকে খিলাফতের আনুগত্যকারীনি এক সেবিকা গণ্য করতেন। দ্বিতীয় জানাযা কাযাখিস্তানের প্রাক্তন আমীর শ্রদ্ধেয় রোলান সাহেবের সহধর্মিণী শ্রদ্ধেয়া ক্লারা আপা সাহেবার; তারা ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে বয়আত গ্রহণ করেন এবং কাযাখিস্তানের একেবারে প্রথমদিকের আহমদী ছিলেন। ক্লারা সাহেবা কাযাখ ভাষায় প্রথম পবিত্র কুরআনের অনুবাদও করেন, যা এখনও প্রকাশিত হয় নি। সেখানকার আহমদীদের মতে তিনি সবার জন্যই মমতাময়ী মায়ের মত ছিলেন। তৃতীয় জানাযা লিবিয়ার প্রথম আমীর ও পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত উইং-কমান্ডার শ্রদ্ধেয় আব্দুর রশীদ সাহেবের; চতুর্থ জানাযা আমেরিকা-প্রবাসী শ্রদ্ধেয় করীম আহমদ নঈম সাহেবের সহধর্মিণী শ্রদ্ধেয়া যুবাইদা বেগম সাহেবার এবং পঞ্চম জানাযা শ্রদ্ধেয় হাফিয আহমদ ঘুমান সাহেবের। হুযূর প্রয়াতদের রূহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং দোয়া করেন যেন তাদের পুণ্যের ধারা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও অব্যাহত থাকে। (আমীন)

ডাউনলোড করুন